অসমের ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় জগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর মধ্যে একজন হলেন Srimanta Sankardev। ১৫শ শতকে জন্ম নেওয়া এই মহান সাধক শুধুমাত্র ধর্মীয় আন্দোলনের নেতা নন, বরং অসমীয় সমাজ ও সাহিত্যের আধুনিক ভিত্তি স্থাপনকারী একজন মনীষী।
ধর্মীয় আন্দোলনের প্রবর্তক
Sankardev ছিলেন ভক্তি আন্দোলনের (Bhakti Movement) অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি “এক শরণ নাম ধর্ম” (Eka Sharana Naam Dharma) প্রচার করে সমাজে একেশ্বরবাদ এবং মানবতাবাদী চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেন। তাঁর ধর্মীয় শিক্ষা জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষকে একত্র করেছিল।
সাহিত্য ও সংগীতের নবজাগরণ
Sankardev অসমীয় সাহিত্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। তাঁর লেখা ‘Kirtan Ghosha’ ও ‘Bhagavat of Sankardev’ আজও অসমীয় ধর্মীয় সাহিত্যের মূলভিত্তি।
তিনি Borgeet নামে এক অনন্য ধ্রুপদী সংগীতধারা প্রবর্তন করেন, যা ভক্তিমূলক হলেও এর সুর, রাগ ও তাল রীতিমতো শাস্ত্রীয় সংগীতের পরিপূর্ণতা বহন করে।
নাটক ও পারফর্মিং আর্ট
তিনি ‘Ankiya Naat’ নামে এক বিশেষ নাট্যধারার জন্ম দেন। এই নাটকে ধর্মীয় কাহিনী ও নৈতিক শিক্ষা মিলে যায় এক মনোগ্রাহী উপস্থাপনায়। তাঁর সৃষ্টি ‘Cihna Yatra’ — ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম ভিজ্যুয়াল থিয়েটার বলেও ধরা হয়।
এছাড়াও তিনি Sattriya Nritya নামে এক ধ্রুপদী নৃত্যশৈলীর জন্ম দেন, যা আজ ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্যতম ধারা হিসেবে স্বীকৃত।
সামাজিক ও শিক্ষামূলক অবদান
Srimanta Sankardev সমাজ সংস্কারেও অগ্রণী ছিলেন। তিনি জাতপাতের বিভাজন বিরোধী ছিলেন এবং সকলকে এক ধর্ম ও মানবতার সূত্রে আবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার প্রসারেও তিনি ভূমিকা রাখেন — নামঘর ও সত্ৰ প্রতিষ্ঠানগুলি ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হত।
উপসংহার
Srimanta Sankardev শুধু একজন ধর্মপ্রচারক নন — তিনি অসমের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি রচয়িতা। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, নাটক, দর্শন ও ধর্মচিন্তা আজও অসমীয় জনমানসে অমলিন। তাঁর উত্তরাধিকার আজও Sattra, Naamghar, Borgeet, এবং Sattriya Nritya-র মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে আছে।
অসমে তাঁকে শুধু একজন সাহিত্যিক নয়, বরং “জাগ্রত মানবতার প্রতীক” হিসেবেও মানা হয়।

Orbit News India's best updated Bengali news portal
