ক্যাংগ্রা কেল্লা ভারতের হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গ। এটি ক্যাংগ্রা জেলা ও ধরমশালা শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে, প্রাকৃতিকভাবে দু’টি নদী — বাঙ্গাঙ্গা ও মাজি —– এর মিলনস্থলে একটি পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
এই দুর্গটি রাজপুত কাটোচ বংশ (Katoch dynasty) কর্তৃক নির্মিত বলে ধরা হয়। দুর্গের ভিতরে পাওয়া যাওয়া সবথেকে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষগুলোর মধ্যে আছে জৈন ও হিন্দু মন্দির, যেগুলি প্রায় ৯ম–১০ম শতাব্দীর সময়ের।
দুর্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় সन् ১০০৯ সালে, যখন মহম্মদ গ਼জনী এটি আক্রমণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৩৩৭ সালে মুসলিম সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক এবং ১৩৫১ সালে ফাইরুজ শাহ তুঘলক দুর্গ দখল করার সমর্থক আক্রমণ করেন।
১৫৪০ সালে শের শাহ সুরি’র আইত্তফাকিক (জেনারেল) খানবাশ খান মারওয়াত কেল্লাটি দখল করেছিলেন। ১৫৫৬ সালে রাজা ধরাম চন্দ আসলে মুঘল সম্রাট আকবরকে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং কেল্লার দাবি থেকে বিরত থাকার শর্ত দিয়েছিলেন। ১৬২০ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীর রাজা হরি চন্দকে হত্যা করে কাংগ্রা রাজ্যকে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করেন, এবং কেল্লাটি দখল করেন। জাহাঙ্গীর ১৬২১ সালে দুর্গ পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেখানে একটি বলদ বধ করার আদেশ দিয়েছিলেন। দুর্গের ভিতরে একটি মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছিল।
মুঘল শাসন কালের পর, মুঘল সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করলে, রাজা সংশার চন্দ II ক্যাংগ্রা দুর্গ পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চালান। ১৭৮৩ সালে মুঘল গভর্নর সাইফ আলি খানের পুত্র জিআন খান দুর্গ ক্যানহাইয়া মিসলের জয় সিংকে সমর্পণ করেন। এরপর সংশার চন্দ ও ক্যানহাইয়া মিসলরা যুদ্ধ ও কূটনৈতিক পথে কেল্লাটি দখল করে নেয়।
১৮০৯ সালে গুরখ্যা বিপ্লব ও সিখ-গুরখ্যা যুদ্ধের পর, মহারাজা রণজিৎ সিংহ কেল্লাটি চুক্তির ভিত্তিতে গ্রহণ করেন এবং সংশার চন্দকে কিছু আঞ্চলিক জমি প্রদানের বিনিময়ে অধিকার রাখে। সিখ সাম্রাজ্যকালে রণজিৎ সিংহ একটি প্রবেশদ্বার (“রনজিৎ সিং গেট”) যুক্ত করান। ১৮৪৬ সালে প্রথম আংলো-সিখ যুদ্ধে ব্রিটিশরা দুর্রোহীদের পরাজিত করে কেল্লাটি দখল করে নেয়।
ব্রিটিশ শাসনকালে এই দুর্গটিতে ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়। ৪ এপ্রিল ১৯০৫-এর প্রলয়ংকর ভূমিকম্পে দুর্গ অনেকাংশে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
আর্কিটেকচার ও বর্তমান অবস্থা
ক্যাংগ্রা কেল্লার নির্মাণ শৈলী বেশ বিভিন্ন ধরনের: শক্ত পাথর, প্রাসারিত প্রাচীর, পর্যায়ক্রমিক উপাদান ও কিছু অংশ ভোলকৃত। দুর্গের কিছু অংশ পাহাড়ের পাথর থেকে সরাসরি খোদাই করা হয়েছে। ভিতরে মন্দির, ঝর্ণাপ্রবাহ ও পুরাতন গ্যালারি রয়েছে। একটি ছোট মিউজিয়াম রয়েছে, যেখানে কাঠ ও পাথরের কিছু মূর্তি ও প্রাচীন প্রত্নবস্তু প্রদর্শিত হয়।
বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। ভ্রমণকারীরা দুর্গের বাতাস, ধ্বংসাবশেষ, উপরের দীপ্ত দৃশ্য ও প্রকৃতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তবে ভূমিকম্প ও সময়ের প্রভাব অনেক অংশ নষ্ট করেছে, ফলে যথেষ্ট সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

Orbit News India's best updated Bengali news portal
