বাংলার লোককথায় রঘু ডাকাত এক কিংবদন্তি চরিত্র। একসময় তিনি ছিলেন ভয়ঙ্কর ডাকাত, কিন্তু শেষ জীবনে ভক্তিতে পরিণত হয়ে কালীসাধনায় মগ্ন হন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির আজও বাংলার ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
রঘু ডাকাতের ইতিহাস
- ইতিহাস অনুযায়ী, রঘু ডাকাত ১৮শ–১৯শ শতাব্দীতে হুগলি-বর্ধমান অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন।
- তিনি ধনীদের কাছ থেকে লুট করলেও সাধারণ গরিব মানুষকে সাহায্য করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।
- তাঁর ভয়ঙ্কর নাম শুনলেই মানুষ শিউরে উঠত, কিন্তু পরবর্তীকালে জীবনের মোড় ঘুরে যায়।
কিংবদন্তী ও কালীভক্তি
- কথিত আছে, এক রাতে ডাকাতি শেষে রঘু মা কালীর দর্শন পান।
- দেবী তাঁকে ভয়ঙ্কর পথ ছেড়ে ভক্তির পথ বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- তারপর থেকেই তিনি ডাকাতি ছেড়ে কালীসাধনায় ব্রতী হন।
- বিশ্বাস করা হয়, রঘু ডাকাতের অগাধ ভক্তি দেখে মা কালী তাঁর সব পাপ ক্ষমা করেছিলেন।
রঘু ডাকাতের কালী মন্দির
- রঘুর প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির আজও পূজিত। বিশেষত কালীপুজো ও অমাবস্যার দিনে এখানে ভক্তদের ঢল নামে।
- মন্দিরে দেবীকে রঘুর আরাধ্য রূপে পূজা করা হয়।
- স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই মন্দিরে মানত করলে দেবী সকল বাধা দূর করে।
উৎসব ও সমাজজীবনে প্রভাব
- প্রতিবছর কালীপুজোয় মন্দির প্রাঙ্গণে মেলা বসে।
- স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এই পূজার গভীর যোগ রয়েছে। গান, কীর্তন ও নাটকের মাধ্যমে রঘু ডাকাতের কাহিনি পরিবেশিত হয়।
- গবেষকদের মতে, এটি বাংলার ডাকাত-লোকবিশ্বাস ও দেবীপূজার মিশ্র সংস্কৃতির অন্যতম উদাহরণ।
বর্তমান অবস্থা
- মন্দির এখনো জনসাধারণের দানে টিকে আছে।
- ভক্তদের ভিড় দিন দিন বাড়লেও পর্যটন পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।
- প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন, রঘু ডাকাতের পূজিত কালী মন্দির বাংলার লোকঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা সংরক্ষণ করা জরুরি।
উপসংহার
রঘু ডাকাতের জীবন ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণ। ভয়ঙ্কর ডাকাত থেকে ভক্ত হয়ে ওঠার এই রূপান্তর বাংলার লোকস্মৃতিতে আজও বেঁচে আছে। তাঁর পূজিত কালী মন্দির ভক্তি, ক্ষমা ও মানবিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Orbit News India's best updated Bengali news portal
