লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া (১৮৬৮–১৯৩৮) ছিলেন অসমীয়া নবজাগরণের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক। তাঁকে ‘অসমীয়া সাহিত্যের যুগান্তকারী’ বলা হয়। কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, কাব্য-আলোচনা থেকে শুরু করে শিশু সাহিত্য—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
লক্ষ্মীনাথের জন্ম বর্তমান নাগাঁও জেলার আওনিয়াতি সত্ৰে। শৈশবে তিনি শিবসাগর, বরপেটা প্রভৃতি স্থানে বেড়ে ওঠেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তিনি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তখন অসমীয়া ভাষা অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ব্যস্ত ছিল। বেজবড়ুয়া সাহিত্যকে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত করে অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতিকে নতুন মর্যাদা দেন।
তাঁর সাহিত্যকীর্তি বহু বিচিত্র। কাব্যের ক্ষেত্রে ‘কদম্ব’ কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রবন্ধে তিনি সমাজের অসঙ্গতি, অগ্রগতি ও জাতীয় চেতনার কথা লিখেছেন। তাঁর রচনায় দেশপ্রেম গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। শিশু সাহিত্যে লেখা “বড়ুয়া দাদাৰ বচন” ছোটদের মধ্যে এখনো জনপ্রিয়।
নাট্য সাহিত্যে তাঁর অবদানও অনন্য। ‘চন্দ্রধ্বজা সিংহ’, ‘জয়মতী’, ‘বণকুন্তলা’ প্রভৃতি নাটক কেবল শিল্পকীর্তিই নয়, জাতীয়তাবাদেরও প্রতীক। তিনি বিশ্বাস করতেন, নাটক মানুষের চেতনা জাগ্রত করতে পারে এবং সমাজ সংস্কারে সহায়ক হতে পারে।
অসমীয়া ভাষার ইতিহাস ও সাহিত্য সমালোচনাতেও তিনি ছিলেন পথিকৃত। তাঁর লেখা ‘অসমীয়া ভাষাৰ মূল’ প্রবন্ধটি ভাষাতত্ত্বে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকী সম্পাদনার মাধ্যমে অসমীয়া সাহিত্যকে জনমুখী করে তোলেন।
বেজবড়ুয়ার লেখায় জাতীয় চেতনার সঙ্গে মানবিকতা ও বাস্তব জীবনের ছবি উঠে এসেছে। তিনি কুসংস্কার, সামাজিক বৈষম্য ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি ছিলেন এক সমাজচিন্তক ও সংস্কৃতি-প্রেমী।
আজ লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া শুধু অসমীয়া সাহিত্যের গর্ব নন, সমগ্র ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর লেখনীতে যে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সাহিত্যের শক্তি প্রকাশ পেয়েছে, তা পাঠককে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত করবে।

Orbit News India's best updated Bengali news portal
