রামধারী সিং দিনকর (১৯০৮–১৯৭৪) ছিলেন হিন্দি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ। তাঁকে ভারতের “জাতীয় কবি” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর কবিতায় দেশপ্রেম, বিপ্লবী চেতনা ও মানবতার দীপ্তি অমর হয়ে আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় দিনকরের কবিতা যুবসমাজকে জাগিয়ে তুলেছিল।
দিনকর জন্মগ্রহণ করেন বিহারের বেগুসরাই জেলার সিমরিয়া গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী ছিলেন এবং বিপুল কষ্টের মধ্য দিয়েই শিক্ষা অর্জন করেন। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত হন। কিন্তু তাঁর সত্যিকারের পরিচয় গড়ে ওঠে কবিতা ও সাহিত্যচর্চায়।
তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “রেণুকা” প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে। এরপর “হুঁকার”, “রাস্ট্রগান”, “কুরুক্ষেত্র”, “পরশুরাম কি প্রতীক্ষা” প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ তাঁকে বিশেষ খ্যাতি এনে দেয়। দিনকরের লেখায় একদিকে যেমন বেদ-পুরাণ ও ইতিহাসের গৌরবগাথা, অন্যদিকে আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবতাবোধ প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর রচনায় বিদ্রোহী সুর সর্বদা প্রধান। তাই তাঁকে ‘বিদ্রোহের কবি’ও বলা হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর কবিতা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। তবে শুধু বিপ্লব নয়, তিনি প্রেম, করুণা, সমাজসংস্কার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও কবিতা লিখেছেন। তাঁর কাব্যে শক্তি ও সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয় দেখা যায়।
দিনকর কেবল কবিই নন, তিনি ছিলেন দক্ষ প্রাবন্ধিকও। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ “সংস্কৃতি কে চার অধ্যায়” ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে অনন্য কীর্তি। এই গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৫৯ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. এস. রাধাকৃষ্ণনের সময় তিনি রাজ্যসভার সদস্যও ছিলেন।
১৯৭২ সালে দিনকরকে “জ্ঞানপীঠ পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাঁর অসামান্য সাহিত্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। ১৯৭৪ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও আজও তাঁর কবিতা দেশপ্রেম ও সাহসের অমোঘ সুরে মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
রামধারী সিং দিনকর শুধু হিন্দি ভাষার গর্ব নন, সমগ্র ভারতীয় জাতির অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর লেখনী স্বাধীনতার স্বপ্ন, মানবতার বার্তা এবং সংস্কৃতির গৌরবকে যুগে যুগে জীবন্ত রাখবে।

Orbit News India's best updated Bengali news portal
