কার্জন হল উপমহাদেশের মধ্যে ব্রিটিশ স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। এর সাথে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ১১৬ বছরের ইতিহাস। সাতচল্লিশের দেশভাগ, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের নীরব সাক্ষী এই স্থাপনাটি। কার্জন হল যেন এক মৌন ভাষাসৈনিক এবং মহান মুক্তিযোদ্ধা।

এ স্থাপনাটি শুধুমাত্র একটি ইট-পাথরের ভবনই নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের মানুষের আবেগ। কার্জন হলের ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও পুরনো। অসাধারণ নির্মাণশৈলীর স্থাপনাটি যেকোনো ভাবুক ব্যক্তিকে দ্বিতীবার তাকিয়ে দেখতে বাধ্য করে। চলুন আজ আমরা কার্জন হলের সেকাল-একাল নিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করব।
কার্জন হলের সাথে জড়িয়ে আছে বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস। ব্রিটিশ সরকার যখন বঙ্গভঙ্গ করার পরিকল্পনা করছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা হওয়ার কথা ছিল পূর্ব বাংলার রাজধানী। তখন ঢাকায় তেমন কোনো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি স্থাপনা ছিল না। ঢাকার গুরুত্ব বুঝতে পেরে ব্রিটিশরা ঢাকাতে বেশ কিছু স্থাপনা নির্মিণের জন্য অনুমোদন করে। তার মধ্যে কার্জন হল অন্যতম।

বর্তমানে কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের কিছু শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এটি নির্মাণ করা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে। তাছাড়া ১৯০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অস্ত্বিত্বই ছিল না।
Orbit News India's best updated Bengali news portal
