Breaking News

পূর্বভারতের সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব‘পূর্বোদয়’, কবি, সাহিত্যিকদের মহাকুম্ভ

নিজস্ব প্রতিবেদন- প্রাচীন গ্রিসে জিমনেসিয়াম নামে এক মহা আখাড়া ছিল, যেখানে শরীরচর্চার পাশাপাশি, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, চিন্তাবিদদের বিশাল এক আড্ডাস্থলও ছিল। একই চিত্র ছিল, প্রচীন ভারতেও। নালন্দা, তক্ষশীলা, বিক্রমশীলার মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ছিল গোটা বিশ্বের কাছে বিস্ময়। মধ্যপ্রাচ্য, চীন, এমনকী পূর্বের দেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী এসেছে জ্ঞান সঞ্চয়ের লক্ষ্যে।

আজ ডিজিটাল দুনিয়ার যুগে, গোটা বিশ্ব এক ক্ষুদ্র গ্রামে পরিণত হয়েছে। ভূমণ্ডলের যে কোনও কোনার, প্রতি মুহূর্তের খবর এখন হাতের মুঠোফোনে বন্দি। নতুন উদ্ভাবন, আবিষ্কার, চিন্তার উন্মেষের প্রতিযোগিতা চলছে জোর কদমে। কল্পনা, চিন্তাকে লাগাম পরিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন গতি পাচ্ছে বিজ্ঞানের বিজরথের। আর এই বিজ্ঞানকে প্রাচীনকাল থেকে ইন্ধন জুগিয়ে এসেছে সাহিত্যচর্চা। এমনকী সমাজকে নবচেতনায় জাগরিত করার, মানব জাতির মৌলিক সত্ত্বাকে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে সাহিত্যের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সেই চলমান রাজপথে, নতুন উদয়ের মার্গদর্শনের লক্ষ্যেই পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব। আয়োজন করছে, ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ।

পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের উদ্দেশ্য কী?

প্রচীনকাল থেকেই ভারতের ইতিহাস, সামাজিক ব্যবস্থার অনুসন্ধান করলে বহুমাত্রিক নিদর্শন পাওয়া যায়, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির এক উৎকর্ষ মেলবন্ধনের অন্যতম নাম ভারতবর্ষ। প্রাচীন কাল থেকেই বহু ভাষাভাষির, জাতি, ধর্মের মানুষ মিলেমিশে রয়েছে। দ্বন্দ্ব রয়েছে, কিন্তু সেই সংঘাতকে অতিক্রম করে ধ্রুপদী ও লোকসংস্কৃতির এক ঊর্বর চারণভূমি নির্মাণ করেছে। তাই হয়তো ভারত এখনও অটুট রয়েছে কোনও এক অদৃশ্য শক্তিশালী সুতোর বুনোটে। একটি পরিধানে যেমন ভিন্ন রঙের সুতো থাকে, কিন্তু তার বননের শিল্পকলা পরিধানকে টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। তেমনই, ভাষা, বর্ণ, সংস্কৃতি আলাদা হলেও, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার নিরন্তর প্রয়াস সমৃদ্ধ করেছে ভারতীয় সংসকৃতিকে। যেখানে সাহিত্য এক শক্তিশালী আধারশিলা হয়ে রয়েছে। সেই আধারশিলার গভীর আত্মিক অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব। যেখানে, ভারতের পূর্ব প্রান্তের নবরসের আকর অনুসন্ধান করা যায়। বাংলা, ওড়িয়া, আহমিয়া, ত্রিপুরা, সাঁওতালি, ভোজপুরি, মৈথিলি, হিন্দিসহ আঞ্চলিক নানা লোকভাষার সাহিত্যকে, ভাবনাকে একটি মহামিলনক্ষেত্রে মঞ্চায়িত করা যায়।

কারা যুক্ত হতে পারেন এই মহামিলনস্থলে?  

পশ্চিমবঙ্গ, বাংলা, বিহার, ঝাড়়খণ্ড, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের (পূর্বাঞ্চল), সিকিম, অসম, ত্রিপুরা, এই নয় রাজ্যের মূল ভাষার পাশাপাশি, আঞ্চলিক ভাষার কবি, সাহিত্যিরা যুক্ত হচ্ছেন পূর্বোদয়ের সাহিত্য উৎসবের মহাকুম্ভে। অর্থাৎ আপনি, সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতি অনুরাগী হলে, আপনিও জুড়ে যেতে পারেন পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের এই বৃহৎ পরিবারে। আপনার সুক্ষ্ম সাহিত্য চিন্তা, দর্শন ছড়িয়ে পড়তে পারে, বৃহৎ পরিসরে। যেখানে ভাষা অন্তরায় হয়ে উঠবে না। তাই যে কোনও সাধারণ মানুষের জন্য অবারিত দ্বার।

ছোট প্রতিভা, বড় মঞ্চে আপনার প্রজন্ম

ক্রমবর্ধমান গতিশীল জীবনচক্রে, শিল্প, সাহিত্যচর্চার অবকাশ ক্রমশ কম হয়ে আসছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির থাবায় ক্রমেই যন্ত্র নির্ভর, যান্ত্রিক জীবন তৈরি হচ্ছে। দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের ধ্রুপদী উপকরণগুলি, খেলার মাঠ, শরীর চর্চার স্থান, সাহিত্যচর্চার পাঠাগার, আগেব, অনুভূতি বিনিময়ের বৈঠকখানাগুলি। ফলে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পূর্বসুরিদের অনেক জীবনচর্চার কাহিনী আজ সেকেলে, আজগুবি হয়ে উঠছে। কারণ একটাই আবেগ, অনুভূতি, সহানুভূতির সুতোগুলি ছিন্নভিন্ন হচ্ছে। তাই আপনার সন্তানের কাছে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে দেশের ভিন্ন প্রান্তের লৌকিক সাহিত্য, সংস্কৃতির ভাবনা, দর্শন আদান প্রদানের বড় শ্রীক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব। যেখানে, তারা নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে, নানা ক্ষেত্রে, নিজস্ব লেখনি, নাচ, গান, অভিনয়ের মাধ্যমে। এই বৃহৎ সাহিত্য উৎসবের আয়োজন  ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিস করলেও, সহযোগি সংস্থা হিসেবে রয়েছে, ভারত সরকারের সংস্থা ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, অরবিন্দ ভবনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলি।

পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব কোথায় হচ্ছে, কবে হচ্ছে?

পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের প্রথম সূচনা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। তিনদিনের এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন বা আই সি সি আরে।  চলতি বছরেই নভেম্বরে এই সাহিত্য উৎসব দ্বিতীয় পর্বে পা রাখতে চলেছে। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সাহিত্য উৎসব চলছে কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি প্রাঙ্গনে। উৎসবে যোগ দেবেন, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলা, বিহার, ঝাড়়খণ্ড, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের (পূর্বাঞ্চল), সিকিম, অসম, ত্রিপুরার প্রতিষ্ঠিত, বিখ্যাত সাহিত্যিকেরা। অর্থাৎ আন্দাজ করাই যায়, এতো বৃহৎ পটচিত্রের সাহিত্য উৎসবের মঞ্চ পূর্ব ভারতে এই প্রথম। বলা ভালো, সাহিত্যচর্চার মহাকুম্ভ, মিলনক্ষেত্র। এমনকী স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও, তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন এই উৎসবে। বিস্তারিত জানতে, ইমেল করতে পারেন  iscsindiaoffice@gmail.com  ফোন নম্বর- 9007387752

আমাদের চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান

About Orbit News

Check Also

লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া : অসমীয়া সাহিত্যের যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব

লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া (১৮৬৮–১৯৩৮) ছিলেন অসমীয়া নবজাগরণের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক। তাঁকে ‘অসমীয়া সাহিত্যের যুগান্তকারী’ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!